তাজমহল ভারতের আগ্রায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য, যা মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয় স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মাণ করেন। সাদা মার্বেলে তৈরি এই প্রেমের প্রতীক বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।...
ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের অন্যতম এক আর্কষণ তাজমহল। তাজমহল নিয়ে মানুষের জল্পনা-কল্পনার কোনো শেষ নেই। চলুন জেনে নেই পৃথিবীর আশ্চর্যতম স্থাপনা তাজমহলের সকল জানা-অজানা কথা।
ভারতের আগ্রায় অবস্থিত তাজমহল, বিশ্ববাসীর কাছে এক প্রেমের অনন্য নিদর্শন। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয় স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম যিনি মুমতাজ মহল নামে পরিচিত, তার প্রতি অগাধ ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ এটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৬৩২ সালে শুরু হওয়া এই অবিস্মরণীয় সৌধটি মুঘল স্থাপত্যশৈলীর শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের অন্তর্ভুক্ত।
তাজমহলের ইতিহাস
শাহজাহানের চতুর্থ স্ত্রী মমতাজ মহল ছিলেন তাঁর জীবনের অন্যতম প্রেরণা। ১৬৩১ সালে চৌদ্দতম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজ মহল মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রীর প্রতি তাঁর গভীর প্রেম ও শোককে স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে সম্রাট সিদ্ধান্ত নেন একটি অপূর্ব সমাধি নির্মাণের। সেই থেকেই জন্ম নেয় তাজমহলের ধারণা।
প্রায় ২২ বছর ধরে প্রায় ২০,০০০ শ্রমিক ও কারিগরের অক্লান্ত পরিশ্রমে এটি নির্মিত হয়। এর নির্মাণকাজে ভারত ছাড়াও তুরস্ক, পারস্য, এবং মধ্য এশিয়ার দক্ষ কারিগরেরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
স্থাপত্যশৈলী
তাজমহল নির্মাণে সাদা মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে, যা রাজস্থান থেকে আনা হয়। এর দেয়াল ও গম্বুজে খোদাই করা আছে সূক্ষ্ম নকশা এবং কোরআনের আয়াত। মূল সমাধির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মমতাজ মহল ও শাহজাহানের সমাধি।
তাজমহলের চতুর্দিকে চারটি সুউচ্চ মিনার রয়েছে, যা স্থাপত্যের ভারসাম্য ও নান্দনিকতার উদাহরণ। মুঘল, পার্সিয়ান, তুর্কি, এবং ভারতীয় স্থাপত্যের অপূর্ব মিশ্রণে তৈরি হয়েছে তাজমহলের নকশা।
তাজমহলের রঙ পরিবর্তনের সৌন্দর্য
তাজমহল দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রঙ ধারণ করে। ভোরে এর গায়ে গোলাপি আভা, দুপুরে উজ্জ্বল সাদা, আর চাঁদনী রাতে এটি হয়ে ওঠে রূপালি। এই রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি প্রকৃতির সাথে এক অপূর্ব সঙ্গম সৃষ্টি করে।
তাজমহল নিয়ে কিছু বিস্ময়কর তথ্য
তাজমহল এখন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। ১৯৮৩ সালে তাজমহল ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। যদিও এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, তবে ভারত সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এটি সংরক্ষিত হয়েছে।